এগারসিন্দুর গোধূলি–প্রভাতী ট্রেনের রুট সম্প্রসারণ: মোহনগঞ্জ পর্যন্ত চালুর বাস্তবসম্মত প্রস্তাব
এগারসিন্দুর গোধূলি আন্তঃনগর ট্রেনটি বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০:৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জে পৌঁছায়। এরপর একই রেক প্রায় সাত ঘণ্টা কিশোরগঞ্জ স্টেশনে অলস অবস্থায় পড়ে থাকে।
রেলের সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই ট্রেনটি কিশোরগঞ্জে শেষ না করে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। রাতেই কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে ট্রেনটি আনুমানিক রাত ১টার মধ্যে মোহনগঞ্জে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা বিরতির পর ভোর ৪টার দিকে একই রেক এগারসিন্দুর প্রভাতী হিসেবে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত রেক সংযোজনের প্রয়োজন হবে না। বরং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, কিশোরগঞ্জ স্টেশনে দীর্ঘ সময় ট্রেন অলস পড়ে থাকার অবসান ঘটবে এবং মোহনগঞ্জসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের মানুষ সরাসরি আন্তঃনগর রেলসেবার আওতায় আসবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে এটি হতে পারে একটি সাশ্রয়ী, বাস্তবসম্মত ও যাত্রীবান্ধব উদ্যোগ।
সময় এসেছে নতুন করে ভাবার
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের অবকাঠামো উন্নয়ন যখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তখন দীর্ঘদিনের এই দাবিগুলো নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যাত্রীচাহিদা, কারিগরি সক্ষমতা, পরিচালনাগত বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি গৌরীপুর থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্দুর আন্তঃনগর ট্রেন পুনরায় চালু করা যায় এবং একই সঙ্গে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাহলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই—যে ট্রেন একসময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক ছিল, সেটিকে কি আবারও তার ঐতিহাসিক রুটে ফিরিয়ে আনার সময় আসেনি ?
মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার
সাংবাদিক, গবেষক, ইতিহাস সন্ধানী
Mohammad Raihan Uddin Sarker 









