Dhaka 1:37 am, Saturday, 18 July 2026

 

আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমির দ্বন্দ থামাতে গিয়ে আরেক চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন খুন হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় নিজ বাড়ির সামনে এ খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় মো. মুনসুর সিকদারসহ (৬৫) হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করেছে। এবং তার স্ত্রীকে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আমতলী থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর সিকদার ও আপন ভাই ফরিদ সিকদারের মধ্যে পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ২৬ শতাংশ (৮কড়া) জমি নিয়ে প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে দ্বন্দ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। তাতেও কোন সুরহা হয়নি। ঘটনার দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় এ দ্বন্দেও জের ধরে মুনসুর সিদার ছুরি নিয়ে তার আপন ভাই ফরিদ সিকদারকে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করে। এ সময় মৃত্যু শামসু সিকদারের ছেলে আপন চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম সিকদার (৪০)। বাধা দিলে মুনসুর সিকদার তার বাম পাজরে ছুরি বসিয়ে দেন। সাথে সাথেই জহিরুল মাটিতে লুটিয়ে পরেন। স্থানীয় ও স্বজনরা জহিরুলকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। শালিসদার মো. লিমন হাওলাদার বলেন, মুনসুর সিকদার ও ফরিদ সিকদারের মধ্যে ২৬ শতাংশ (৮কড়া) জমি নিয়ে ২৫-৩০ বছর ধরে দ্বন্দ চলে আসছে। আমি এ দ্বন্দ নিরশনের জন্য চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন সুরহা করা যায়নি। তিনি আরো বলেন, কাগজ পত্রে দেখা গেছে, মুনসুর হাওলাদারের কোন জমি নেই। তারপরও তিনি দাবী করছেন। নিহত জহিরুলের স্ত্রী নুপুর বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর স্বামীওে কির লইগ্যা অরা মারছে আমি এইয়ার বিচার চাই। ছেলে, কান্না করছিলেন আর বলছিলেন, মোর বাপেরে অরা মাইর‍্যা মোগো এহন এতি বানাইয়া দিছে। মোরা এহন ক্রাওে বাবা বইল্যা ডাকমু। জহিরুলের মা রোকেয়া বেগম বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বিলাপ করছিলেন, মুই এহন কারে বাপ কইয়া ডাকমু। ও মোর বাপ তুই মোরে একবার মা কইয়া ডাক দে। কথাগুলো বলছিলেন আর বার বার বুক চাপরাচ্ছিলেন। এঘটনায় তিনি অপরাধীদেও ফাসি দাবী করেন। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামন বলেন, নিহত জহিরুলের বাম পজরে ধারালো ছুরির আঘাত রয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুনসুর সিকদারকে হত্যার ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করা হয়েছে। এসময় জিঞ্জাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী শেফালি বেগমকেও থানায় আনা হয়েছে। হাসপাতাল তেকে লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গৌরীপুর রাজবাড়ির সবচেয়ে প্রাচীন ভবন: গৌরীপুর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের স্বাক্ষী ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

Update Time : 05:13:13 pm, Saturday, 10 January 2026

 

আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমির দ্বন্দ থামাতে গিয়ে আরেক চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন খুন হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় নিজ বাড়ির সামনে এ খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় মো. মুনসুর সিকদারসহ (৬৫) হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করেছে। এবং তার স্ত্রীকে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আমতলী থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর সিকদার ও আপন ভাই ফরিদ সিকদারের মধ্যে পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ২৬ শতাংশ (৮কড়া) জমি নিয়ে প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে দ্বন্দ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। তাতেও কোন সুরহা হয়নি। ঘটনার দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় এ দ্বন্দেও জের ধরে মুনসুর সিদার ছুরি নিয়ে তার আপন ভাই ফরিদ সিকদারকে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করে। এ সময় মৃত্যু শামসু সিকদারের ছেলে আপন চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম সিকদার (৪০)। বাধা দিলে মুনসুর সিকদার তার বাম পাজরে ছুরি বসিয়ে দেন। সাথে সাথেই জহিরুল মাটিতে লুটিয়ে পরেন। স্থানীয় ও স্বজনরা জহিরুলকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। শালিসদার মো. লিমন হাওলাদার বলেন, মুনসুর সিকদার ও ফরিদ সিকদারের মধ্যে ২৬ শতাংশ (৮কড়া) জমি নিয়ে ২৫-৩০ বছর ধরে দ্বন্দ চলে আসছে। আমি এ দ্বন্দ নিরশনের জন্য চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন সুরহা করা যায়নি। তিনি আরো বলেন, কাগজ পত্রে দেখা গেছে, মুনসুর হাওলাদারের কোন জমি নেই। তারপরও তিনি দাবী করছেন। নিহত জহিরুলের স্ত্রী নুপুর বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর স্বামীওে কির লইগ্যা অরা মারছে আমি এইয়ার বিচার চাই। ছেলে, কান্না করছিলেন আর বলছিলেন, মোর বাপেরে অরা মাইর‍্যা মোগো এহন এতি বানাইয়া দিছে। মোরা এহন ক্রাওে বাবা বইল্যা ডাকমু। জহিরুলের মা রোকেয়া বেগম বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বিলাপ করছিলেন, মুই এহন কারে বাপ কইয়া ডাকমু। ও মোর বাপ তুই মোরে একবার মা কইয়া ডাক দে। কথাগুলো বলছিলেন আর বার বার বুক চাপরাচ্ছিলেন। এঘটনায় তিনি অপরাধীদেও ফাসি দাবী করেন। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামন বলেন, নিহত জহিরুলের বাম পজরে ধারালো ছুরির আঘাত রয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুনসুর সিকদারকে হত্যার ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করা হয়েছে। এসময় জিঞ্জাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী শেফালি বেগমকেও থানায় আনা হয়েছে। হাসপাতাল তেকে লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।