নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, আর ২ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধা জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং সাঘাটা উপজেলায় ১ জন চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ২ শিশু এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া সদর ও সাঘাটার ১টি করে শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে রয়েছে সদরের মালিবাড়ি ইউনিয়নের শফিক মিয়ার ছেলে মারুফ (৫) এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে সাব্বির (৬)। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাব্বির গত ৩০ মার্চ এবং মারুফ ৩১ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া তাসিন নামে আরও এক শিশু ৩০ মার্চ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।
জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে হাম-রুবেলার বেশ কিছু স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। তবে এখানে পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। তাই শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা অ্যাশ জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্যান্য শিশু ও মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিলে বিদ্যালয়ে না পাঠানোরও আহ্বান জানান।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, বর্তমানে ভর্তি থাকা শিশুদের অবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. আশিক ইকবাল জানান, ২ জন শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তারা হাম আক্রান্ত কিনা। তিনি বলেন, অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
তিনি আরও বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলায় জন্মের পর ৯ মাস বয়সে ১১ হাজার ৯৮০ শিশু এবং ১৫ মাস বয়সে ১১ হাজার ৯৪০ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ড্রপআউট হয়েছে মাত্র ৪০ জন শিশু।
Reporter Name 













