নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রূপগঞ্জে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী ‘বৈসাবি বিঝু’ উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে আগত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজুকে সম্মিলিতভাবে ‘বৈসাবি’ নামে উদযাপন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নারায়ণগঞ্জেও উৎসবটি পালিত হলো।
রোববার (১২ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পরে কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফুল ভাসিয়ে সকলের মঙ্গল কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষরা জানান, জীবিকার তাগিদে তারা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে উৎসব উদযাপনের সুযোগ হয়ে ওঠে না। পহেলা বৈশাখে একদিন ছুটি পেলেও দূরত্বের কারণে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই এবার প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জেই ছোট পরিসরে ‘বিঝু উৎসব’ উদযাপন করতে পেরে তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতে প্রতিবছর এ উৎসব পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা সুমিত বড়ুয়া বলেন, “যেসব পাহাড়ি মানুষ কর্মসূত্রে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছেন এবং উৎসবে নিজ এলাকায় যেতে পারেন না, তাদের কথা চিন্তা করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই, প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ উৎসব উদযাপন করা হোক।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সফলভাবে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
উৎসবের মাধ্যমে নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
Reporter Name 













