নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযানে ১৩ হাজার ৯০০ লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময় দুই অভিযানে জড়িত দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার সব ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানে ৯১০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপোর পাশে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানে সেখানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৯১০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মো. সিফাত নামের এক ব্যক্তিকে ২ মাসের কারাদণ্ড এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে ৪৮৮০ লিটার ডিজেল উদ্ধার
একই দিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মেঘনা ডিপো সংলগ্ন এস ও বাসস্ট্যান্ড রোড এলাকায় আরেকটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে একটি বাড়ি থেকে ৪৮৮০ লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত ডিজেল জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় নাসির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
“মজুতদাররা ব্যবসায়ী নয়, অপরাধী”
অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির সাংবাদিকদের বলেন,
“গত ৭ মার্চ থেকে অবৈধ জ্বালানি মজুতের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে, তারা ব্যবসায়ী নয়—অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে এসেছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে আরও একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০০ টন ডিজেল রয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি নিন। কেউ অতিরিক্ত মজুত করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযান চলবে আরও কঠোরভাবে
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 















