সায়েদাবাদে ডিএসসিসির সাঁড়াশি অভিযান, সিলগালা ৫০ অবৈধ বাস কাউন্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত পরিবহন কেন্দ্র সায়েদাবাদে সড়কজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ বাস কাউন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সেখানে ৫০টি অবৈধ ও অনুমোদনহীন বাস কাউন্টার উচ্ছেদ করে সিলগালা করা হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সায়েদাবাদ জনপথ সড়কের হুজুরের বাড়ির সামনের অংশ থেকে জনপদ মোড় পর্যন্ত এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু আসলাম। এ সময় সহায়তায় ছিল ডিএমপির ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ ও ওয়ারী বিভাগ পুলিশ।
অভিযান চলাকালে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাস কাউন্টারগুলো অপসারণ করে একে একে সিলগালা করা হয়। স্টারলাইন, হিমাচল, শ্যামলী, সাকুরা, লাবিবা, শান্তি, ইকোনো, সারা এক্সপ্রেস, ইউনিক লাক্সারী, দোলা ও গোল্ডেন পরিবহনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫০টি কাউন্টারে প্রায় ১০০টি তালা লাগানো হয়।
এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) একই এলাকার গোলাপবাগ মোড় থেকে হুজুরের বাড়ি পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আরও ১৮টি অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ ও সিলগালা করা হয়। ফলে দুই দিনে উচ্ছেদ অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা হলো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সায়েদাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বাস কাউন্টার পরিচালিত হওয়ায় তীব্র যানজট, যাত্রী দুর্ভোগ এবং চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এ পরিস্থিতি নিরসনে গত ১০ মার্চ ডিএসসিসির উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ এপ্রিল থেকে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের ডিসি মো. আজাদ রহমান, এডিসি মো. আবু তাহের ইসলাম, টিআই মো. রবিউল ইসলাম এবং সুকুমার বর্মন।
অভিযানে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে সড়ক বা ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু আসলাম বলেন,
“সায়েদাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাস কাউন্টার স্থাপন করে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছিল। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছিল, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। জনস্বার্থে ও নগর শৃঙ্খলা রক্ষায় এই অভিযান চলমান থাকবে।”
Reporter Name 















