Dhaka 1:36 am, Saturday, 18 July 2026

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা, আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:15:14 pm, Sunday, 26 April 2026
  • 14 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাব লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ক্লাব লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না। বরং ক্লাবগুলোকে স্বাধীনভাবে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।” প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবাহনী ক্লাবের ব্যবস্থাপনা নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলা মাদকবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর কর্মকর্তাদের আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিতিকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রাও টিকে থাকবে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহায়তা দেওয়া হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে তা ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষা বর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মাঠে উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপ-এর অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গৌরীপুর রাজবাড়ির সবচেয়ে প্রাচীন ভবন: গৌরীপুর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের স্বাক্ষী ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা, আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

Update Time : 07:15:14 pm, Sunday, 26 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাব লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ক্লাব লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না। বরং ক্লাবগুলোকে স্বাধীনভাবে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।” প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবাহনী ক্লাবের ব্যবস্থাপনা নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলা মাদকবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর কর্মকর্তাদের আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিতিকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রাও টিকে থাকবে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহায়তা দেওয়া হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে তা ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষা বর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মাঠে উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপ-এর অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।