Dhaka 12:07 pm, Thursday, 10 September 2026

গৌরীপুরের ৪ দপ্তরে একা ইউএনও, ব্যাহত নাগরিক সেবা: অবিলম্বে এসিল্যান্ড ও পৃথক পৌর প্রশাসকের জোর দাবি

গৌরীপুরের ৪ দপ্তরে একা ইউএনও, ব্যাহত নাগরিক সেবা: অবিলম্বে এসিল্যান্ড ও পৃথক পৌর প্রশাসকের জোর দাবি

২৬ আগস্ট ২০২৬, এসিএ নিউজ সেন্টার, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাব।

​ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর উপজেলায় তীব্র কর্মকর্তা-সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা পদোন্নতি/বদলি সূত্রে অবমুক্ত হওয়ার পর থেকে গত ১৫ দিন ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভূমি অফিসের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে আছে।

​বর্তমানে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা ( দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রশাসক) একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের বাড়তি চাপ সামলাচ্ছেন। তিনি একাধারে: ১) ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বে ২) ​নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (উপজেলা নির্বাহী বিচারক) ৩) ​উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ৪) ​সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ৫) ​গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)

​একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশাল জনসংখ্যার উপজেলায় এক একক কর্মকর্তার পক্ষে একই সাথে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, নামজারি, মিস কেস এবং পৌরসভার নিয়মিত নাগরিক সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​উল্লেখ্য, গৌরীপুর পৌরসভা একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক পৌরসভা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পৌরসভাটি তার গৌরবময় শতবর্ষ (১০০ বছর) পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী পৌরসভায় সার্বক্ষণিক স্বাধীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও তদারকি প্রয়োজন, যা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনওর পক্ষে একা সামাল দেওয়া কঠিন।

​বিদ্যমান সংকট নিরসনে এলাকার জনদাবি ও সম্ভাব্য সমাধান:
​অনতিবিলম্বে স্থায়ী এসিল্যান্ড পদায়ন: যেসব উপজেলায় পৌরসভা নেই বা অপেক্ষাকৃত কম কর্মভার রয়েছে, সেখান থেকে কোনো সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দ্রুত গৌরীপুরে বদলি করে আনা যেতে পারে।

​পৌরসভায় পৃথক প্রশাসক নিয়োগ: পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং শতবর্ষ পূর্তির প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন বা জেলা পরিষদ থেকে কোনো ক্যাডার কর্মকর্তা/ম্যাজিস্ট্রেটকে পৌর প্রশাসক হিসেবে পূর্ণকালীন দায়িত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।

​প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন জনগণ দাবি জানাচ্ছেন, অনতিবিলম্বে গৌরীপুরে পূর্ণাঙ্গ এসিল্যান্ড পদায়ন ও পৌরসভায় পৃথক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগরিক ভোগান্তি দূর করা হোক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

গৌরীপুরের ৪ দপ্তরে একা ইউএনও, ব্যাহত নাগরিক সেবা: অবিলম্বে এসিল্যান্ড ও পৃথক পৌর প্রশাসকের জোর দাবি

Update Time : 04:37:14 am, Thursday, 27 August 2026

গৌরীপুরের ৪ দপ্তরে একা ইউএনও, ব্যাহত নাগরিক সেবা: অবিলম্বে এসিল্যান্ড ও পৃথক পৌর প্রশাসকের জোর দাবি

২৬ আগস্ট ২০২৬, এসিএ নিউজ সেন্টার, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাব।

​ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর উপজেলায় তীব্র কর্মকর্তা-সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা পদোন্নতি/বদলি সূত্রে অবমুক্ত হওয়ার পর থেকে গত ১৫ দিন ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভূমি অফিসের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে আছে।

​বর্তমানে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা ( দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রশাসক) একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের বাড়তি চাপ সামলাচ্ছেন। তিনি একাধারে: ১) ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বে ২) ​নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (উপজেলা নির্বাহী বিচারক) ৩) ​উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ৪) ​সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ৫) ​গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)

​একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশাল জনসংখ্যার উপজেলায় এক একক কর্মকর্তার পক্ষে একই সাথে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, নামজারি, মিস কেস এবং পৌরসভার নিয়মিত নাগরিক সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​উল্লেখ্য, গৌরীপুর পৌরসভা একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক পৌরসভা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পৌরসভাটি তার গৌরবময় শতবর্ষ (১০০ বছর) পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী পৌরসভায় সার্বক্ষণিক স্বাধীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও তদারকি প্রয়োজন, যা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনওর পক্ষে একা সামাল দেওয়া কঠিন।

​বিদ্যমান সংকট নিরসনে এলাকার জনদাবি ও সম্ভাব্য সমাধান:
​অনতিবিলম্বে স্থায়ী এসিল্যান্ড পদায়ন: যেসব উপজেলায় পৌরসভা নেই বা অপেক্ষাকৃত কম কর্মভার রয়েছে, সেখান থেকে কোনো সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দ্রুত গৌরীপুরে বদলি করে আনা যেতে পারে।

​পৌরসভায় পৃথক প্রশাসক নিয়োগ: পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং শতবর্ষ পূর্তির প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন বা জেলা পরিষদ থেকে কোনো ক্যাডার কর্মকর্তা/ম্যাজিস্ট্রেটকে পৌর প্রশাসক হিসেবে পূর্ণকালীন দায়িত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।

​প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন জনগণ দাবি জানাচ্ছেন, অনতিবিলম্বে গৌরীপুরে পূর্ণাঙ্গ এসিল্যান্ড পদায়ন ও পৌরসভায় পৃথক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগরিক ভোগান্তি দূর করা হোক।