Dhaka 8:11 pm, Thursday, 10 September 2026

গৌরীপুরে প্রতিবেশী সন্ত্রাসী হামলা: সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বিশালসহ আহত ৩, প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ

গৌরীপুরে প্রতিবেশী সন্ত্রাসী হামলা: সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বিশালসহ আহত ৩, প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, এসিএ নিউজ, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের রূকনাকান্দা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশীদের অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিশাল (১৩) সহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি জুয়েল মিয়া প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূকনাকান্দা গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের একটি সন্ত্রাসী চক্র। দেশীয় ধারালো অস্ত্র (রামদা ও দা) নিয়ে হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে উজ্জ্বল মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গেলে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্র বিশাল (১৩) এগিয়ে আসে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বিশালকে লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ মারে, যাতে তার বাঁ হাতের কনুই ও হাতের অংশ মারাত্মকভাবে জখম হয়।

​নাতি ও ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিশালের বৃদ্ধা দাদীও রেহাই পাননি। সন্ত্রাসীরা তার ডান হাতের কব্জির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলা শেষে যাওয়ার সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং পরিবারটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও মামলার পরিস্থিতি:
রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পিতা উজ্জ্বল মিয়া ও তার স্কুলছাত্র ছেলে বিশাল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উজ্জ্বল মিয়ার ২য় স্ত্রী মোছাঃ আরিফা খাতুন বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৮, তারিখ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬; ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)। মামলায় জুয়েল মিয়া (৩৫), রতন মিয়া (৩৭), জমির উদ্দিন (৬০)সহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়।
​মামলার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায়। অন্যদিকে, মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি জুয়েল মিয়া বর্তমানে জামিন ছাড়াও বা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আরিফা খাতুন ও লাকী আক্তার।

​শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ:
নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বিশালের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী ও এলাকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিষাদের সৃষ্টি হয়। একজন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এ নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রধান আসামিসহ বাকি অপরাধীদের পুনরায় গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

গৌরীপুরে প্রতিবেশী সন্ত্রাসী হামলা: সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বিশালসহ আহত ৩, প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ

Update Time : 03:47:36 am, Wednesday, 2 September 2026

গৌরীপুরে প্রতিবেশী সন্ত্রাসী হামলা: সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বিশালসহ আহত ৩, প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, এসিএ নিউজ, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের রূকনাকান্দা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশীদের অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিশাল (১৩) সহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি জুয়েল মিয়া প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূকনাকান্দা গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের একটি সন্ত্রাসী চক্র। দেশীয় ধারালো অস্ত্র (রামদা ও দা) নিয়ে হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে উজ্জ্বল মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গেলে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্র বিশাল (১৩) এগিয়ে আসে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বিশালকে লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ মারে, যাতে তার বাঁ হাতের কনুই ও হাতের অংশ মারাত্মকভাবে জখম হয়।

​নাতি ও ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিশালের বৃদ্ধা দাদীও রেহাই পাননি। সন্ত্রাসীরা তার ডান হাতের কব্জির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলা শেষে যাওয়ার সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং পরিবারটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও মামলার পরিস্থিতি:
রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পিতা উজ্জ্বল মিয়া ও তার স্কুলছাত্র ছেলে বিশাল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উজ্জ্বল মিয়ার ২য় স্ত্রী মোছাঃ আরিফা খাতুন বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৮, তারিখ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬; ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)। মামলায় জুয়েল মিয়া (৩৫), রতন মিয়া (৩৭), জমির উদ্দিন (৬০)সহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়।
​মামলার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায়। অন্যদিকে, মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি জুয়েল মিয়া বর্তমানে জামিন ছাড়াও বা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আরিফা খাতুন ও লাকী আক্তার।

​শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ:
নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র বিশালের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী ও এলাকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিষাদের সৃষ্টি হয়। একজন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এ নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রধান আসামিসহ বাকি অপরাধীদের পুনরায় গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।